নিজস্ব সংবাদদাতা : নবদ্বীপে মানবিকতার নজির: কুকুরের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল পরিত্যক্ত শিশুকন্যা. নদিয়ার নবদ্বীপে এক হৃদয়স্পর্শী ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল স্থানীয় বাসিন্দারা। গভীর রাতের অন্ধকারে এক নবজাতক শিশুকন্যাকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অবাক করার মতো বিষয়, স্থানীয় কিছু পথকুকুরের তৎপরতায়ই প্রাণে বাঁচল ওই অসহায় শিশু।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে একটি নির্জন এলাকায় শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান কয়েকজন বাসিন্দা। প্রথমে কেউ বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও, আশেপাশে ঘোরাফেরা করা কয়েকটি কুকুরের অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ তৈরি হয়। কুকুরগুলো একটি নির্দিষ্ট জায়গার চারপাশে ঘুরছিল এবং মাঝে মধ্যেই জোরে ঘেউ ঘেউ করছিল, যেন কাউকে সতর্ক করার চেষ্টা করছে।

এরপর স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে দেখতে পান, একটি কাপড়ে মোড়া নবজাতক শিশুকন্যা মাটিতে পড়ে রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, কুকুরগুলো শিশুটির পাশে পাহারা দিচ্ছিল এবং অন্য কোনো পশুকে কাছে আসতে দিচ্ছিল না। দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো উদ্ধার হওয়ায় শিশুটি আপাতত বিপদমুক্ত। তবে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পথকুকুরগুলো, যা স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও আবেগের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, কে বা কারা এই নিষ্ঠুরভাবে শিশুটিকে ফেলে গেল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এমন অমানবিক ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
নবদ্বীপের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—মানবতার আলো এখনও নিভে যায়নি, কখনও কখনও তা অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
