লেখক : জগবিন্দর পাটিয়াল | সম্পাদক : শৈলজাকান্ত মিশ্র | সর্বশেষ হালনাগাদ : ৩০ মার্চ ২০২৬, বিকাল ০৩:০৭
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার আগুনে নতুন মোড়—নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তে চাপে ট্রাম্প, ইরানে স্থল যুদ্ধে নামছে না ইসরায়েল
নেতানিয়াহুর নীরব সিদ্ধান্তে ভাঙল ট্রাম্পের আশা—একাকী ইসরায়েলের দৃঢ় ঘোষণা, “ইরানে পা বাড়াবে না আমাদের সেনা”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মধ্যেই কূটনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনল ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে দেশটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—ইরানের মাটিতে কোনো স্থল অভিযান চালাবে না তাদের সেনাবাহিনী। এই ঘোষণায় ওয়াশিংটনের কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে মনোযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে, ইরানকে লক্ষ্য করে স্থল যুদ্ধের দায় অনেকটাই এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধে পড়তে পারে।

যদিও ইসরায়েল জানিয়েছে, আকাশ ও নৌ অভিযান তারা চালিয়ে যাবে, কিন্তু সরাসরি ইরানের মাটিতে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান শুরু করে, তবে তা তাকে একাই পরিচালনা করতে হবে।
এই অবস্থান স্পষ্ট করার সময়টাও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, পেন্টাগন ইতিমধ্যেই ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা মার্কিন সেনা উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা এখনও অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে স্থল অভিযান শুরু করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজন হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনে এই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে ওয়াশিংটন।
ইতিমধ্যেই পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১০,০০০ সৈন্য মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ৩,৫০০-রও বেশি সেনা, যার মধ্যে ২,৫০০ মেরিন সদস্য রয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে পৌঁছে গেছে।

মার্কিন-ইসরায়েল ইরান যুদ্ধ।
উৎস: সোশ্যাল মিডিয়া (X)
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে—যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তই বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
